মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

জাতি বিদ্বেষের শিকার যাদবপুরের অধ্যাপক
জাতি বিদ্বেষের শিকার যাদবপুরের অধ্যাপক

জাতি বিদ্বেষের শিকার যাদবপুরের অধ্যাপক

  • scoopypost.com - Sep 06, 2020
  • কলকাতা নাকি দেশের সংস্কৃতির পীঠস্থান। এই নিয়ে আমাদের গর্বের শেষ নেই। সেই গর্বে এবার গ্রহণ লেগে গেল। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় শুধু আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনাই নয় আমাদের ছাত্র সমাজের মানসিকতা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল। জানা ছিল না যে আমাদের ছাত্র সমাজের মনের গহীনে এত বিদ্বেষ জমে আছে।   

    যে ঘটনা এখন কলকাতার আলোচনার কেন্দ্রে তা স্পষ্ট করা দরকার। সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অ্যাসিস্টান্ট প্রফেসর, যে ই ই এবং নিট পরিক্ষা নিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ছাত্রদের জীবনের চেয়ে একটা বছর দামী নয়।তাঁর এই পোস্টের প্রতিবাদে এক ছাত্রী পালটা পোস্ট করেন। প্রতিবাদে আপত্তি নেই । ছাত্র-ছাত্রীরা যে কোনও বিষয়েই প্রতিবাদ করতে পারে। প্রশ্ন উঠছে প্রতিবাদের বিষয় নিয়ে। যে ছাত্রী যাদবপুরের অধ্যাপকের ওই পোস্টের প্রতিবাদ  করে নিজের মত প্রকাশ করেছেন তিনি সেই অধ্যাপকের জাতিগত পরিচয় তুলে কথা বলেছেন।আর সে কোনও অখ্যাত বা প্রত্যন্ত জেলার কলেজের  ছাত্রী নয়, সে কলকাতার নামী প্রতিষ্ঠান বেথুন কলেজের ছাত্রী। সে লিখেছে যেহেতু ওই অধ্যাপক আদিবাসী সম্প্রদায়ের তাই তাঁর এই নিয়ে মন্তব্য করার কোনও অধিকার নেই। সে লিখেছে কোটার ভিত্তিতে চাকরি পাওয়ার সঙ্গে বিনা কোটার চিন্তাধারার এটাই পার্থক্য।এই জাতিগত পরিচয় নিয়ে কলকাতার এক ছাত্রী প্রশ্ন তুলছে এটাই অবাক করার বিষয়। তবে অবাক হওয়ার এখানেই শেষ নয়।তার মতকে সমর্থন করেছেন প্রায় ১৫০০ জন।অর্থাৎ এরাও সেই জাতিগত পরিচয়কেই গুরুত্ব দিচ্ছে।

    প্রশ্ন অনেক। এক তাহলে কি আমাদের মনের ভিতরেও এই জাতি বিদ্বেষ রয়ে গেছে? আমরা কি এর থেকে মুক্ত হতে পারিনি? তাহলে কিসের সাংস্কৃতিক বড়াই? কিসেরই বা আমাদের ছাত্র সমাজকে নিয়ে গর্ব? আমরা তো মনে করি ছাত্ররাই দিন বদলের কথা বলে তারা সমস্ত রকম বিদ্বেষের উর্দ্ধে। তা্রা নতুন দিনের দূত। এই ঘটনা কিন্তু সে সব ধারণায় একেবারে জল ঢেলে দিয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে আমরা বাইরে যতই সংস্কৃতির বড়াই করি না কেন মনের ভিতরটা আমাদের এখনো ঘোর অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছে।

    এবার এর সঙ্গে রাজনীতির কথা বলা দরকার। এ কথা ঠিক ২০১১ সাল থেকে এ রাজ্যে বামেরা ক্ষমতায় নেই। আবার এ কথাও তো ঠিক তার আগে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে ৩৪ বছর তারা এই রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় ছিল। তাদের সাফল্য ব্যর্থতা নিয়ে একটাও কথা বলা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য নয়। শুধু তাদের একটি দাবির কথা এই প্রসঙ্গে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন। বামেরা সব সময়ই দাবি করে এসেছে এ রাজ্য রাজনীতি সচেতন। বিশেষ করে এ রাজ্যের ছাত্র সমাজ। এই কী তার নমুনা? এই কি ৩৪ বছরের রাজনীতি সচেতনার ফল?  

    এবার একটু অন্য দিক থেকে এই ঘটনাকে বিচার করার দরকার আছে। এ কথা কারুর অজানা নেই দেশে বেকারি কী হারে বাড়ছে।উচ্চ শিক্ষা নিয়েও , সরকারি দপ্তরে চতুর্থ শ্রেণির পদের জন্য আবেদন করেন লাখ লাখ বেকার যুবক-যুবতী। সেই তাঁরাই যখন দেখেন শুধুমাত্র কোটার কারণে তাঁদের সামনে দিয়ে তুলনামুলক ভাবে কম যোগ্য কেউ সেই চাকরি হাসিল করে নিচ্ছে তাহলে তার মনে কী ভাব আসতে পারে, সেটাও তো ভাবতে হবে। আসলে এই কোটা নিয়ে দেশের যুব সমাজ-ছাত্র সমাজের মনে যে বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে তার খোঁজ রাখার প্রয়োজন বোধ করেনি কোনও রাজনৈতিক দল। তাই প্রশ্নটা যখন হয়ে দাঁড়ায় পেটের বা ভবিষতের তখন কোনও সংস্কৃতি মনস্কতাই কাজে আসে না। ক্ষোভটা খুব স্বতোঃস্ফূর্ত ভাবেই বেরিয়ে আসে। এই ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল ভাবের ঘরে চুরি করার দিন শেষ।