মঙ্গলবার, অক্টোবর 27, 2020

আতঙ্কের নাম করোনা, কাঁপছে কলকাতাও
আতঙ্কের নাম করোনা, কাঁপছে কলকাতাও

আতঙ্কের নাম করোনা, কাঁপছে কলকাতাও

  • scoopypost.com - Jan 27, 2020
  • এদেশে এখনও ভয়ের কারণ নেই বলছেন চিকিৎসকরা। তবে করোনা নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করলেন চিনের চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ গাবরিয়েল লিয়াং।তাঁর পর্যবেক্ষণ ও সমীক্ষা বলছে, মহামারি হয়ে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে চলেছে নোভাল করোনা। সমস্ত দেশের করোনা মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার সময় হয়েছে।ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসাকারী ডক্টর লিয়াং উদং-এর মৃত্যু হয়েছে। মারা গিয়েছেন জিয়াং জিজুন নামে ইউহানের আর এক চিকিৎসক। যদিও জিয়াংয়ের মৃত্যু করোনা ভাইরাসের জেরে হয়েছে কিনা, সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

    এদিকে, কলকাতায় এক চিনা নাগরিক অসুস্থ হয়ে বেলেঘাটা আইডিতে ভর্তি হওয়ায় তৈরি হয়েছে আতঙ্ক।প্রশ্ন উঠেছে তবে করোনা এবার কলকাতায় ঢুকল। যদিও চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, করোনাতেই ওই চিনা পর্যটক আক্রান্ত কি না, তা নিশ্চিত নয়। এমনকী তাঁর জ্বর, শ্বাসকষ্ট কোনও সমস্যাই নেই। জানা গিয়েছে, বছর ২৮-এর চিনা নাগরিক জো হুয়ামিন ভারতে বেড়াতে এসেছিলেন। তীব্র মাথার যন্ত্রণা নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। সেখান থেকে তাঁকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে, করোনা আক্রান্তদের জন্য তৈরি বিশেষ আইসোলেশন ওয়ার্ডে।জো ছমাস আগে বিদেশ ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন। নামিবিয়া, মরিশাস, মাদাগাস্কার হয়ে ২৪ জানুয়ারি তিনি ভারতে আসেন।তাঁর জ্বর ও শ্বাসকষ্ট না-থাকলেও, শরীরে নানা রকম অস্বস্তি রয়েছে।এদিকে, চিকিৎসকদের সঙ্গে কমিউনিকেশনে ভাষাগত সমস্যা হওয়ায়, তাঁর শরীরে কি অস্বস্তি হচ্ছে ডাক্তাররা বুঝতে পারছেন না। চেষ্টা চলছে, কলকাতায় চিনা কনসাল জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করার। তবে চিনা পর্যটক ওই তরুণী করোনাতে আক্রান্ত নয় বলেই মনে করছে পুণের ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি। আপাতত তাঁর রক্তের নমুনা সেখানে পাঠানো হচ্ছ না বলেই জানা গিয়েছে। বরং, তরুণীর পেটের সমস্যা ছিল। তার চিকিৎসা চলছে। তবে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে তাঁকে।

    এদিকে, রাজস্থানেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে একজন ভর্তি এসএমএস হাসপাতালে। আইসোলেশন ওয়ার্ডে তাঁর চিকিৎসা চলছে। রাজস্থানের স্বাস্থ্য মন্ত্রী রঘু শর্মা চিকিৎসককে জানিয়েছেন ওই রোগী চিনে এমবিবিএস পড়তে গিয়েছিলেন। করোনায় আক্রান্ত কিনা, নিশ্চিন্ত না-হওয়া গেলেও এ ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

    ইতিমধ্যেই বিশ্বে আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে চিন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস। এখন পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের আক্রমণে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা কয়েক হাজার। তারমধ্যেই চিন্তা বাড়িয়েছে চিনের চিকিৎসক, গবেষক হু-এর সঙ্গে যুক্ত গাবরিয়েল লিয়াং।তাঁর অনুমান, এখনই যদি চিন সরকার আরও বেশি তৎপর না-হয় তাহলে প্রতি ছদিনে দ্বিগুণ হতে থাকবে আক্রান্তের সংখ্যা। বিশ্ববাসীকেও করোনা ভাইরাস যে মহামারি হয়ে উঠতে চলেছে সে ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তিনি।গাবরিয়েল তাঁর রিপোর্ট দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু-কে। চিনা সরকারকেও জানিয়েছেন তাঁর উদ্বেগের কারণ।

    তিনি ও তাঁর দলের সদস্যরা জানাচ্ছেন, উপসর্গ যাঁদের রয়েছে তাঁদের চিহ্নিত করা গিয়েছে। কিন্তু এমন অনেকে এই ভাইরাসে আক্রান্ত যাঁদের শরীরে সেই অর্থে রোগের কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সেই সংখ্যা জুড়লে আক্রান্ত হতে পারে ৪০ হাজার।

    সোমবার হংকংয়ে একটি সাংবাদিক বৈঠকে হু-এর সদস্য ওই চিকিৎসক-গবেষক বিশ্ববাসীকে করোনা নিয়ে সতর্ক করেন।ইউহানের পাশাপাশি চিন সরকারকে তিনি সতর্ক করেছেন অবিলম্বে সাংহাই, গুয়াংঝো, বেজিং, সেনঝেনেও মহামারি হয়ে উঠতে চলেছে করোনা ভাইরাস। করোনা ভাইরাস যে মহামারি হয়ে উঠছে তা গতিপ্রকৃতি দেখে তাঁরা অনুমান করতে পারছেন। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে কিছু না-জানালেও বিষয়টি নিয়ে যে ইতিমধ্যেই সচেতন হতে হবে বিশ্ববাসীকে তা তিনি জানাচ্ছেন।

    এদিকে, চিনের ইউহানে গিয়ে আটকে পড়েছেন বর্ধমান ও বীরভূমের দুই বাঙালি গবেষক। সাম্যকুমার রায় নামে বর্ধমানের এক বাসিন্দা গিয়েছেন পোস্ট ডক্টরেট করতে। তিনি সেখানে ঘরে আটকে। জানান, গোটা শহর শুনশান। দোকানপাট বন্ধ। রাস্তাঘাট বের হতেও বারণ করা হয়েছে। খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে। ফেরার উড়ান বন্ধ। এই মুহূর্তে দিশেহারা। একই অবস্থা জানাচ্ছেন আর এক গবেষক কাজি আরিফ। তিনি আটকে রয়েছেন হোটেলে। ঘরের মধ্যেও মুখে মাস্ক পরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই গবেষকের কথায় ইউহানে আটকে ভারতের অন্তত ২৫০-৩০০ জন। তাঁদের অনেকেই বাঙালি। এই মুহূর্তে তাঁর চরম আতঙ্কে। ভাইরাস যেভাবে ছড়াচ্ছে তাতে যে কোনও সময় তাঁরাও করোনা সংক্রমণের শিকার হতে পারেন। একই ভয় তাড়া করে বেড়াচ্ছে ইউহানের লোকজনকে।সাম্যর কথায়, ইতিমধ্যে ইউহানে ১০০-এর বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। তাঁদের পরিবার চাইছে ভারত সরকার অবিলম্বে কোনও ব্যবস্থা করুক।