বুধবার, নভেম্বর 25, 2020

সুদে ছাড় দিয়ে আয় বাড়াতে চায় পুরসভা
সুদে ছাড় দিয়ে আয় বাড়াতে চায় পুরসভা

সুদে ছাড় দিয়ে আয় বাড়াতে চায় পুরসভা

  • scoopypost.com - Sep 05, 2020
  • কোভিডে কমেছে আয়। গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ আয় কমেছে কলকাতা পুরসভার। কলকাতা পুরসভার আয়ের প্রধান জায়গা হল সম্পত্তি কর। দেখা যাচ্ছে এই বাবদ আয় গত বছরের এপ্রিল থেকে অগাস্টের তুলনায় এ বছর সে সময়কালে প্রায় ২৯  শতাংশ কম হয়েছে। ফলে পুর ভাঁড়ারে অর্থ আসছে না। এই পরিস্থিতিতে  আয় বাড়াতে ফের বকেয়া সম্পত্তি করে সুদ মুকুবের কথা ভাবছে কলকাতা পুরসভা। রাজ্য সরকারের অনুমতি পাওয়া গেলে আগামি মাস থেকেই এই সুদ মুকুবের প্রকল্প চালু করতে চায় পুরসভা।পুর আধিকারিকদের আশা এই প্রকল্প লাগু করা হলে তা সফল হবে এবং পুরসভার আয়ও বাড়বে।এর আগে ২০১২ সালেও এইভাবে বকেয়া সম্পত্তি করের ওপর সুদ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তখন সেই প্রকল্পের সাফল্য দেখেই এবারও পুর আধিকারিকরা আশা করছেন মানুষ এতে সাড়া দেবেন।

    পুরসভার এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন সুদ বাদে  মোট বকেয়া সম্পত্তি করের পরিমাণ প্রায় ২৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বেশিটাই বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি  কর বকেয়া রয়েছে।পুর আধিকারিকদের আশা এই ওয়েভার প্রকল্প চালু করা হলে দু  তরফেই লাভ হবে। এক যাদের বড় অঙ্কের বকেয়া রয়ছে তাঁদের যদি আসলের সঙ্গে সুদ দিতে হয় তাহলে আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাঁরা যদি সুদে ছাড় পান তাহলে মোট বকেয়ার পরিমাণ কমে যাবে। ফলে সেই টাকা মিটিয়ে দিতে তাঁদের বিশেষ কোনও অসুবিধা হবে না। অন্যদিকে পুরসভাও তাদের দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পড়ে থাকা সম্পত্তি কর পেয়ে যাবেন।

    পুর কর্তৃপক্ষ এর আগে সম্পত্তি কর মিটিয়ে দিতে নাগরিক সচেতনা প্রচারের পরিকল্পনা  করেছিল। কিন্তু কোভিডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। ফলে পুরসভার সমস্ত আয়ের উৎস্য ভীষণ ভাবে ধাক্কা খেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাই আয় বাড়াতে এই প্রকল্প লাগু করা অতান্ত জরুরি বলেই মনে করছেন পুর আধিকারিকরা। এর পাশাপাশি তাঁরা চিন্তা করছেন যাঁরা অনলাইনে কর মেটাবেন তাঁদের জন্য কিছু রিবেট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। তবে এই ব্যবস্থা করতে হলে রাজ্য সরকারের অনুমতি লাগবে এবং পুর আইনেও কিছু সংশোধন করতে হবে।  

    পুরসভা সূত্রে খবর তাদের আয়ের জায়গা  মূলত তিন টি। এক সম্পত্তি কর, দুই ট্রেড লাইসেন্স , এবং তিন নতুন বাড়ি তৈরির ফি। কোভিডের কারণে এই ক্ষেত্রেই আয় খুব কমে গেছে।  এর মধ্যে সম্পত্তি কর আদায় অন্য দুই আয়ের উৎস থেকে কিছুটা হলেও ভাল অবস্থায় রয়েছে। এই মুহুর্তে তাই পুরা আধিকারিকরা চাইছেন কিছুটা ছাড় দিয়ে আয় বাড়িয়ে অন্য দুই ক্ষেত্রের ঘাটতি মিটিয়ে ফেলতে।