বুধবার, মে 12, 2021

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজ্য
নাগরিকত্ব  সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজ্য

নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে উত্তাল রাজ্য

  • scoopypost.com - Dec 13, 2019
  • নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদের আগুন ছড়াল কলকাতাতেও। সংখ্যালঘুদের মিছিল-অবরোধে স্তব্ধ হল বিকেলের কলকাতা। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে সংখ্যালঘুদের মিছিলে থমকে যায় শহরের মধ্যভাগ। বিকেল গড়াতে বিক্ষোভের আগুন ছড়াল পার্কসার্কাস সেভেন পয়েন্ট মোড়ে। দিনের ব্যস্ত সময়ে সাত রাস্তার মোড় বন্ধ হয়ে পড়ল সংখ্যালঘুদের অবরোধে। দুপুরের ধর্মতলায় একপ্রস্থ আন্দোলনে সামিল হয় একাধিক সংখ্যালঘু সংগঠন। সেই বিক্ষোভ মিটতে না মিটতেই পার্ক সার্কাসে শুরু হয়ে যায় অবরোধ বিক্ষোভ। মাঝ রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় টায়ারে। বিঘ্ন ঘটে যান চলাচলে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির নেতাদের দাবি, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার ভারতের মুসলমানদের নিশানা করে সরাসরি মুসলমানদের বিরুদ্ধে এই আইন এনেছেন। সংবিধানের তোয়াক্কা না করেই এই আইন পাস করানো হয়েছে বলেও দাবি তাঁদের। এই আইন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নতুন করে দ্বিজাতি তত্ত্বের ধারণাকে সামনে নিয়ে আসছে বলে মত দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। 

    শুধু কলকাতা নয়, অশান্তির আগুনের আঁচ ছড়িয়েছে জেলাতেও। উত্তর ও দক্ষিন ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ একাধিক জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে সংখ্যালঘুদের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। বেশ কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভ হিংসাত্মক আকার নিয়েছে বলেও খবর। এদিন উলুবেড়িয়া স্টেশনে রেল অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। কিছুক্ষনের মধ্যেই ভয়ঙ্কর রূপ নেয় সেই অবরোধ। অবরোধে দাঁড়িয়ে পড়া করমণ্ডল এক্সপ্রেসকে লক্ষ্য করে ইট বৃষ্টি শুরু করে উত্তপ্ত জনতা। ভেঙে দেওয়া হয় দাঁড়িয়ে থাকা দীনদয়াল উপাধ্য়ায়ের নামাঙ্কিত রেলের নতুন কোচ। রেলের অফিসেও ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে খবর। রেলসূত্রে জানানো হয়েছে চার লক্ষ টাকা, আটটি কম্পিউটার ও কিছু অসংরক্ষিত টিকিট লুট করা হয়। উলুবেড়িয়া স্টেশনে প্রায় ৪ ঘন্টা আটকে থাকে কাণ্ডারি এক্সপ্রেস। এছাড়াও দক্ষিণ পূর্ব রেলের বেশ কয়েকটি এক্সপ্রেস ও লোকাল ট্রেন আটকে পড়ে বিভিন্ন স্টেশনে। অন্য দিকে, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় আন্দোলনও ক্রমেই হিংসাত্মক রূপ নিচ্ছে। এদিন পথ অবরোধ দিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলেও পরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। বেলডাঙা থানা হয় বিক্ষোভকারীদের আক্রমণের লক্ষ্য। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে লাঠি চালাতে হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে শূণ্যে গুলিও ছোঁড়ে পুলিশ।

    শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, বাংলায় এনআরসি বা নাগরিকত্ব আইন কিছুই প্রযোজ্য হবে না। জনগনকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন,“যতই আইন পাশ করুক। কার্যকর করবে তো সরকার। বাংলার সরকার ওই আইন কার্যকর করবে না। করবে না। করবে না।” দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নামতে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ১৬, ১৭, ১৮ ডিসেম্বর দলীয় প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।