বুধবার, নভেম্বর 25, 2020

অঞ্জলি সমস্যায় সেলেবরা
অঞ্জলি সমস্যায় সেলেবরা

অঞ্জলি সমস্যায় সেলেবরা

  • scoopypost.com - Oct 25, 2020
  • খ্যাতির বিড়ম্বনা  বোধহয় একেই বলে। যা ছিল নিছকই আনন্দ, তাই এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে মাথা ব্যাথার কারণ।  এখন চিন্তা হচ্ছে কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে এই সমস্যা।

    কলকাতার বড় পুজো কর্তারা তাঁদের পুজোর আকর্ষণ বাড়াতে অনেক কিছুই করেন। এই নিয়ে তাঁদের মধ্যে এক অঘোষিত লড়াইও চলে। কার পুজোয় কতজন তারকা এলেন, তাই নিয়েও দর্শকদের মধ্যে চলে জোর চর্চা। তাই নিজের পুজোয় সেলেব টানতে তৎপর থাকেন পুজো কর্তারা।  মানতেই হবে এই বিষয়ে কিছুটা এগিয়ে থাকেন সুরুচি সংঘের পুজো কর্তা অরূপ বিশ্বাস। তাঁর পুজোতে একাধিক তারকা এসে বিভিন্ন ভাবে অংশ নেন। নামী তারকাদের উপস্থিতি সুরুচি সংঘের পুজোর এক বাড়তি আকর্ষণ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয় নি। আর তাতেই বিপদের শঙ্কা  ঘনিয়েছে।

    আসলে হয়েছে কী, অষ্টমীর  সকালে সুরুচি সংঘের পুজো মন্ডপে যান তৃণমূলের অভিনেত্রী সাংসদ নুসরত জাহান, তাঁর স্বামী নিখিল জৈন, পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায় তাঁর বাংলাদেশী স্ত্রী মিথিলা। সেখানে তাঁরা ঢাক বাজান, নাচেন এবং অঞ্জলি দেন।

    এই নিয়েই বেধেছে গোল। এবারের পুজো অন্যবারের মতো নয়। অতিমারির আবহে পুজোর পায়ে বেড়ি পরিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে কীভাবে পুজো হবে, কোথায় দর্শক যাবেন , কোথায় যাবেন না। পুজো  উদ্যোক্তাদের ক্ষমতাই বা কতটা তাও নির্দেশ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। তাদের নির্দেশে আগেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল, পুজো মন্ডপের নো এন্ট্রি জোনে কেউ ঢুকতে পারবেন না। পুজো কর্তাদের যাঁরা ওই এলাকায় ঢুকবেন তার তালিকা আগে থেকে মন্ডপের বাইরে ঝুলিয়ে দিতে হবে। নসরত, মিথিলা , সৃজিত এবং নিখিল জৈন অষ্টমীতে কিন্তু ওই নো এন্ট্রি জোনে ঢুকে ঢাক বাজিয়েছেন, নেচেছেন এবং অঞ্জলি দিয়েছেন। এই ঘটনা দেখার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আইন তো সবার জন্য সমান। বিশেষ করে জনপ্রতিনিধিদের আইনকে মান্যতা দেওয়া তাঁদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। তা সত্ত্বেও কী করে এইসব তারকারা নো এন্ট্রি জোনে ঢুকে ঢাক বাজালেন, নাচ করলেন এবং অঞ্জলি দিলেন। এইবার তাঁদের আদালত অবমাননার দায়ে পড়তে হতে পারে।

    এই অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের আরেক সাংসদ মহূয়া মৈত্রের বিরুদ্ধেও। তাঁর ফেসবুক পেজে দেখা গেছে তিনি বিভিন্ন পুজো প্যান্ডালের ভিতর ঢুকেছেন। ফলে আদালত অবমাননার দায়ে  পড়ে যেতে পারেন তিনিও।

    এদিকে নুসরত এবং সৃজিতকে বাঁচানোর পথ খুঁজছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁরা বলছেন নুসরত বহুদিন ধরেই সুরুচি সংঘের সদস্য। সেই হিসেবে তিনি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নো এন্ট্রি জোনে ঢোকার অধিকারী। অনেকেই বলছেন তর্কের খাতিরে এই যুক্তি মেনে নেওয়া হলেও, সৃজিতের স্ত্রী মিছিলার ক্ষেত্রে এই যুক্তি কোনও অবস্থাতেই খাটবে না।

    লক্ষ্মী পুজোর পর আদালতে  তাদের নির্দেশ কতটা মানা হল তা রাজ্যকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে । অনেকেই মনে করছেন সেই সময়ই এই নির্দেশ লঙঘনের এই ঘটনা আদালতের নজরে আনা হতে পারে।সে ক্ষেত্রে আদালতকে কী জবাব দেওয়া হবে তাই নিয়েই চিন্তিত তারকারা।