রবিবার, অক্টোবর 25, 2020

২০২০-র নতুন বাইক
২০২০-র নতুন বাইক

২০২০-র নতুন বাইক

  • scoopypost.com - Jan 02, 2020
  • ২০১৯ শেষ। স্বাগত ২০২০। গত বছর বাজারে বেশ কিছু নতুন মোটরবাইক, স্কুটার লঞ্চ করেছে একাধিক দেশি-বিদেশি মোটরবাইক প্রস্তুতকারক সংস্থা। হিরো এক্স পালস ২০০, সুজুকি জিক্সার ২৫০, কেটিএম ডিউক ১২৫, বিএমডব্লিউ আর ১২৫০ জিএস, ট্রায়াম্ফ স্পিড টুইনের মত নতুন বাইক গত বছরেই লঞ্চ হয়েছে। এগুলি ক্রেতাদের নজরও কেড়েছে ভালই। কিন্তু ২০২০ বছরটা মোটরবাইক এনথুজিয়াস্টদের কাছে আরও রোমাঞ্চের হতে চলেছে। অস্ট্রিয়ার কেটিএম ও সুইডেনের হাসকিউভারনার মত মোটরবাইক প্রস্তুতকারক সংস্থা এ বছর চমকে দিতে চলেছে রাইডারদের। একনজরে দেখে নেওয়া যাক ২০২০-তে কোন কোন নতুন মডেল নামতে চলেছে রাস্তায়।       

    কেটিএম ৩৯০ অ্যাডভেঞ্চার

    কেটিএম ব্র্যান্ড ভারতীয় রাইডারদের মন জয় করে নিয়েছে ডিউক সিরিজের মোটরবাইক দিয়ে। নেক্সট  জেনারেশনের কাছে দারুণ চাহিদা কেটিএম বাইকের। কেটিএম এ বছর বাজারে আনছে তাদের নতুন বাইক ৩৯০ অ্যাডভেঞ্চার। আগের থেকে আরও বেশি সাসপেনশন ট্রাভেল আর ২০০ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সসহ ৩৯০ অ্যাডভেঞ্চার অফ রোডিংয়ের জন্যে দারুণ। ২০১৯ ইন্ডিয়ান বাইক শোয়ে এই মডেলটি প্রথম প্রকাশ্যে আনে কেটিএম। সম্ভবত জানুয়ারিতেই আত্মপ্রকাশ করবে অ্যাডভেঞ্চার ৩৯০।

    ৪৩ বিএইচপির ইঞ্জিন আর ৩৭ নিউট্রন মিটার টর্কযুক্ত এই মডেলটি যথেষ্ট পাওয়ারফুল। সঙ্গে সিক্স স্পিড গিয়ারবক্স আর স্লিপার ক্লাচ এক অনবদ্য সংযোজন। ক্লাচ ছাড়াই যেকোনও স্পিডে গিয়ার ডাউন-শিফটিং বা আপ শিফটিং করতে পারবেন রাইডাররা। সুরক্ষার জন্যে অ্যাডভেঞ্চার ৩৯০-তে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল যুক্ত করা হয়েছে। তবে, রাইডাররা চাইলে তা নিজের মত অফ বা অন করতে পারবেন। অর্থাৎ রাস্তার অবস্থা দেখে এই ফিচার ব্যবহার করা যাবে। এছাড়াও রাইডিং কন্ডিশন অনুযায়ী ব্যবহার করার জন্যে রয়েছে একগুচ্ছ ইলেকট্রনিক রাইড অ্যাসিস্ট। ১৯ ইঞ্চি ফ্রন্ট আর ১৭ ইঞ্চি রিয়ার মেটজেলার টুব়্যান্স টায়ারযুক্ত। দুটিই অ্যালয় হুইলস। চালকদের সুবিধার্থে এই বাইকটিতে ফুল কালার টিএফটি ডিজিটাল কনসোলও আছে। এক্স শো রুম আনুমানিক দাম ৩ লক্ষ টাকা থেকে শুরু।

    হাসকিউভারনা ভিটপিলেন ২৫০/ হাসকিউভারনা এসভার্টপিলেন ২৫০

    হাসকিউভারনা ভিটপিলেন ২৫০ এক্কেবারে মডার্ন কাফে রেসার বাইক। সুইডিশ এই মোটরবাইক প্রস্তুতকারক সংস্থার মালিক কিন্তু কেটিএম-ই। আবার বাজাজ অটোর সঙ্গেও যেহেতু কেটিএম-এর গাঁটছড়া বাঁধা আছে, তাই হাসকিউভারনার সাফল্য-ব্যর্থতাতে এই ভারতীয় সংস্থার যোগ থাকছেই। সঙ্গে অবশ্যই বাজাজের দীর্ঘদিনের ভারতীয় মোটরবাইক ইন্ড্রাস্ট্রির সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ এই মোটরবাইক ব্র্যান্ডের জন্যে স্বস্তির খবর। হাসকিউভারনা তাদের নতুন দুটি প্রডাক্ট এই প্রথম ভারতের রাস্তায় নামাতে চলেছে।

    ভিটপিলেন মোটরবাইকটির অভিনব স্টাইলিং আর রাইডিং পজিশন এর ইউএসপি। ২৫০ সিসি-র হাসকিউভারনা ভিটপিলেন ও এসভার্টপিলেন আসলে কেটিএম ২৫০ ডিউকেরই দুটি ভিন্ন অবতার। ২৪৮ সিসির লিকুইড কুলড সিঙ্গল সিলিন্ডার ইঞ্জিন আছে এই দুটি মোটরবাইকে। সর্বোচ্চ ৩০ বিএইচপি পাওয়ার আর ২৪ নিউট্রন মিটার টর্ক জেনারেট করতে সক্ষম ভিটপিলেন ও এসভার্টপিলেন। সামনে ৪৩ মিলিমিটার আপসাইড ডাউন ফর্ক আর পিছনে মোনোশক এই মোটরবাইকদুটির লুক অ্যান্ড ফিল করে তুলেছে অনন্য। একাধিক সাইকেল পার্টস কেটিএম ডিউকের থেকে ধার করা। তবে, ভিটপিলেন ও এসভার্টপিলেন বাইকদুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সেগমেন্টের। কাফে রেসার লুকে খুবই স্টাইলিশ। সুইডিশ সংস্থার হাসকিউভারনার এই মডেলদুটির আনুমানিক এক্স শো রুম দাম ২.৫০ থেকে ২.৭৫ লক্ষ টাকা।

    জাওয়া পেরাক

    বহুদিন পর মাহিন্দ্রার হাত ধরে দেশে ফিরে জাওয়া সুপারহিট। জাওয়া ফর্টি টু আর জাওয়া ক্লাসিক মডেলগুলি বেশ শক্ত প্রতিযোগিতার মুখো ফেলেছে রয়েল এনফিল্ডকে। জাওয়ার যে তিনটি মডেল প্রাথমিকভাবে ভারতে লঞ্চ করার কথা, তার মধ্যে শেষ মডেলটির নাম পেরাক। বিএস সিক্স ইঞ্জিনযুক্ত জাওয়া পেরাকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ইতিমধ্যেই শেষ। বুকিংও শুরু হয়ে গেছে। এখন অপেক্ষা ডেলিভারির।

    পেরাক বব্বার গোত্রের বাইক। ভারতে এই সেগমেন্টে সবচাইতে শস্তা বাইক অফার করছে জাওয়া। ডিজাইনের দিক থেকে দেখলে বব্বার স্টাইলের জাওয়া বেশ নিচু মোটরসাইকেল। সিঙ্গল সিলিন্ডারের পেরাকেরইঞ্জিন ৩৩৪ সিসির। ৩০ বিএইচপির পাওয়ার আর ৩২ নিউট্রন মিটার টর্কযুক্ত ইঞ্জিনটি সিক্স স্পিড গিয়ারবক্সযুক্ত। পেরাকের ইঞ্জিন লিকুইড কুলড হওয়ায় লং রাইডেও নিশ্চিন্ত ক্রুইজে কোনও বাধা নেই। মোটরবাইকটিরসিগনেচার ডুয়েল একজস্ট পাইপের সাউন্ড কিন্তু দারুণ। এটির সিঙ্গল সিটের সঙ্গেই লাগানো আছে ইন্টিগ্রেটেড টেল লাইট। পেরাকের আনুমানিক এক্স শো রুম দাম১.৯৬ লক্ষ টাকা।

    ট্রায়াম্ফ টাইগার ৯০০

    এ বছরের প্রথম দিকেই ট্রায়াম্ফ টাইগারের নতুন মডেলের রাস্তায় নামার কথা। বর্তমানে ট্রায়াম্ফ টাইগার ৮০০ মোটরবাইকটির জায়গায় ৯০০ ইনট্রোডিউস করছে ব্রিটিশ এই মোটরবাইক প্রস্ততকারক সংস্থা।

    এই মোটরবাইকটিতে থাকছে ইন লাইন থ্রি সিলিন্ডার ৮৮৮ সিসির দুর্দান্ত ইঞ্জিন।যা ৯৩.৯ বিএইচপি উৎপন্ন করতে সক্ষম। ৮৭ নিউট্রন মিটারের টর্কও মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মত। আগেকার ট্রায়াম্ফ ৮০০-র থেকে অনেক উন্নত চেসিস ডিজাইন অনেকটা ‘স্লিম’-ও বটে। তিনটি ভ্যারিয়ান্টে পাওয়া যাবে ২০২০ টাইগার। বেস টাইগার ৯০০, টুরিং ও মাইল্ড অফ রোডিংয়ের জন্যে টাইগার ৯০০ জিটি বা গ্র্যান্ড টুরিং আর ফুল ফ্লেজেড অফ রোডিংয়ের জন্যে টাইগার ৯০০ ব়্যালি। বেস ভার্সনের ট্রায়াম্ফ টাইগার ৯০০ মোটরবাইকটির আনুমানিক এক্স শো রুম দাম ৯ লক্ষ টাকা।

    ২০২০ হন্ডা সিআরএফ ১১০০ এল আফ্রিকা টুইন

    লিজেন্ডারি বললেও কম বলা হয় হন্ডার এই মোটরবাইকটিকে। ইতিমধ্যেই টুরিং আর অফ রোডিংয়ে সারা বিশ্বে সাড়া ফেলে দেওয়া আফ্রিকা টুইন ২০২০ সালে লঞ্চ করতে চলেছে এর আরও উন্নত মডেল। রিভ্যাম্পড ইঞ্জিন আর বডিওয়ার্কে এই সেগমেন্টের অন্য সব মোটরবাইককে অনেকটা পিছনে ফেলে দিয়েছে আফ্রিকা টুইন।

    মোটরবাইকটির ১০৮৪ সিসির প্যারালাল টুইন ইঞ্জিন আগের থেকে আরও বেশি উন্নত করেছে হন্ডা। মোটরবাইক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফ্রিকা টুইনের নতুন অবতার টেকনোলজি ও কানেক্টিভিটির দিক থেকে এখন আরও ভাল। ইঞ্জিনের বোর এক রেখে স্ট্রোক আরও লং করা হয়েছে উন্নত পারফরম্যান্সের জন্যে। আফ্রিকা টুইনের ইঞ্জিনের পাওয়ার ১০১ বিএইচপি। টর্ক ১০৫ নিউট্রন মিটার। টুর, আরবান, গ্র্যাভেল আর অফ রোড, পছন্দমত চারটি রাইডিং মোড সিলেক্ট করা যাবে এই মোটরবাইকটিতে। আফ্রিকা টুইনের আনুমানিক এক্স শোরুম দাম ১০.২০ লক্ষ থেকে ১২.২০ লক্ষ টাকা।

    কেটিএম ৭৯০ অ্যাডভেঞ্চার

    ২০২০ সালের মাঝামাঝি এই বাইকটি লঞ্চ করতে চলেছে কেটিএম। ৩৯০ অ্যাডভেঞ্চারের মতই ৭৯০ অ্যাডভেঞ্চারও একেবারে পারপাসফুল বাইক। বাইকারদের কাছে আরও পাওয়ারফুল আর স্টাইলিশ মেশিন উপহার দিতে কেটিএম ৭৯৯ সিসির প্যারালাল টুইন ইঞ্জিনের এই বাইকটি বাজারে আনতে চলেছে।

    ৯৪ বিএইচপির ৭৯০ অ্যাডভেঞ্চার ৮৮ নিউট্রন মিটার টর্ক জেনারেট করতে পারে। মিডলওয়েট অ্যাডভেঞ্চার বাইক সেগমেন্টে এই মোটরবাইকটি রাইডারদের পছন্দ হবে বলেই আশা কেটিএমের। আনুমানিক ১০ থেকে ১১ লক্ষ টাকা এক্স শো রুম দাম হতে পারে এই বাইকটির।   

    বেনেলি টিআরকে ২৫১

    নতুন বছরে ইটালিয়ান বাইক সংস্থা বেনেলির নবতম অবদান টিআরকে ২৫১। দেশে যেমন দ্রুতহারে বাড়ছে এসইউভির বাজার, তেমনি অ্যাডভেঞ্চার বাইকিংয়ের কদরও সমানতালে বাড়ছে। কেটিএম, হন্ডা, হাসকিউভারনার মত বেনেলিও ২৫০ সিসির অ্যাফর্টেবল অ্যাডভেঞ্চার বাইক লঞ্চ করতে উৎসাহী।

    এর আগেই লিওনসিনো ২৫০ বাজারে এনেছে বেনেলি। টিআরকে-তে সেই লিওনসিনোরই ২৫০ সিসির ইঞ্জিন ব্যবহার করা হবে। যা ২৫.৫ বিএইচপি পাওয়ার ও ২১.১ নিউট্রন মিটার টর্ক জেনারেট করতে পারবে। সামনে আপসাইড ডাউন ফর্ক ও রিয়ার সুইংআর্মে সেন্ট্রাল ড্যাম্পার এই বাইকটির হ্যান্ডলিং আরও রেজর শার্প করেছে। ফ্রন্টে চারটি পিস্টন ক্যালিপারের ২৮০ মিলিমিটারের ডিস্ক ব্রেক, পিছনে সিঙ্গল পিস্টন ক্যালিপারওয়ালা ২৪০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক দ্রুত গতিতেও রাইডারকে দেবে নিরাপত্তার আশ্বাস। ২ থেকে ২.৫ লক্ষ টাকা এক্স শো রুম দাম হতে পারে বেনেলি টিআরকে ২৫১ এর।    

    রয়্যাল এনফিল্ড মিটিওর

    রয়্যাল এনফিল্ড ইন্টারসেপ্টর খুবই পছন্দের, কিন্তু দামটা বাজেটে কুলোচ্ছে না? কুছ পরোয়া নেই, রয়্যাল এনফিল্ড ২০২০ সালেই লঞ্চ করতে চলেছে তুলনায় শস্তা ৬৫০ সিসির মিটিওর। যা, ইন্টারসেপ্টরের মতই পারফরম্যান্সে সক্ষম। মিটিওরে লাগানো আছে ইন্টারসেপ্টরের টুইন সিলিন্ডার ৬৪৮ সিসি ইঞ্জিন, যা ৪৭ বিএইচপি পাওয়ার ও ৫২ নিউট্রন মিটার টর্ক জেনারেট করতে পারে। এন্ট্রি লেভেল ইন্টারসেপ্টর বলেও ডাকা শুরু হয়েছে মিটিওরকে।

    সৌজন্য: জিগহুইল.কম

    তবে, দাম আয়ত্ত্বের মধ্যে রাখতে ইন্টারসেপ্টরের থেকে কিছু কিছু ফিচারস বদলে দেওয়া হয়েছে এই মোটরবাইকটিতে। মিটিওরের সিট, ফুয়েল ট্যাঙ্ক, একজস্ট পাইপ, টেল লাইটের ডিজাইন ইন্টারসেপ্টরের থেকে আলাদা। এয়ার ও অয়েল কুলড ফুয়েল ইঞ্জেকশনযুক্ত এই মোটরবাইকটিতে অবশ্য সেফটির দিক থেকে কোনও কাটছাঁট করেনি রয়্যাল এনফিল্ড। ডুয়েল চ্যানেল এবিএস স্ট্যান্ডার্ড ফিটমেন্ট। এলইডি টেল লাইট বেশ স্টাইলিশ। আমাদের কাছে আসা ছবিতে মিটিওরকে বুলেট স্ট্যান্ডার্ডের মতই দেখতে লাগছে। যদিও সংস্থার দাবি, মিটিওর একেবারে নতুন একটি মোটরবাইক। ২.৭৫ লক্ষ টাকা এক্স শো রুম দাম হতে পারে মিটিওরের।