মঙ্গলবার, নভেম্বর 24, 2020

রুটি-পরোটার লড়াই
রুটি-পরোটার লড়াই

রুটি-পরোটার লড়াই

  • scoopypost.com - Jun 17, 2020
  • রুটি বনাম পরোটা। এমন লড়াইও যে হতে পারে কেউ কোনওদিন ভেবেছিল? শুনে অবাক হলেও তাই হচ্ছে। এই লড়াইকে অনেকে আবার বহু পুরনো সেই স্যান্ডাল বনাম চপ্পলের লড়াইয়ের সঙ্গে তুলনা করছেন। তবে যে, যেভাবেই দেখুন না কেন, কর বা ট্যাক্স নিয়ে রুটি-পরোটার এই লড়াই তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ার নয়।

    সাধারণ ভাবে আমাদের কর ব্যবস্থা বা করের হার নিয়ে মানুষের মনে আনন্দের চেয়ে দুঃখই বেশি। তবে রুটি-পরোটা নিয়ে কর কাজিয়ায় সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যার মূলে রয়েছে অথরিটি ফর অ্যাডভান্সড রুলিং(এ এ আর)-এ কর্ণাটক বেঞ্চের একটি রায়। এ এ আর-এর হিসেবে পরোটার ওপর ১৮ শতাংশ জি এস টি ধার্য করা হয়েছে। অন্য দিকে তৈরি রুটির ওপর তা মাত্র ৫ শতাংশ। এই নিয়েই শুরু হয়েছে দেশজোড়া বিতর্ক। এ এ আর কর্ণাটক বলেছে ফ্রোজেন মালাবার পরটার ওপর ১৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হবে।  

    অনেকে আবার এর পিছনে আইন প্রণেতাদের সমাজতান্ত্রিক মনোভাবকেই দায়ি করেছেন। তাঁদের কাছে পরোটা হল একটু এলিট ক্লাসের আর রুটি আম জনতার। তাই এই কর বৈষম্য। 

    বিষয়টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে এই কারণে যে, জি এস টি তালিকায় পরোটা, পরাঠায় কোনও জি এস টি নেই। জি এস টি-র আওতা থেকে বাদ পাঁউরুটিও। অথচ রুটিতে ৫ শতাংশ আর পিৎজা-র রুটিতের ক্ষেত্রে নেওয়া হয় ৫ শতাংশ হারে জি এস টি।

    এদিকে রুটি- পরোটার এই বিভেদ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ এবং মিমের ছড়াছড়ি। নেটিজেনদের লক্ষ্য মন্ত্রী থেকে আমলা, যাঁরা একটি সহজ জিনিসকে জটিল করে তোলেন। আর যার ফলে এখন অসংখ্য কর বিশেষজ্ঞকে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। দেঝে শুনে মনে হচ্ছে কর্ণাটক এ এ আরের এই রায় আগামী বেশ কয়েক বছর এ কোর্ট  থেকে সে কোর্টে ঘোরাঘুরি করবে।   

    রুটি-পরোটার এই লড়াইয়ের পিছনে আসল কারণ হল জি এস টি তালিকার অসম্পুর্ণতা। এমন অনেক বিষয় আছে যা তালিকাতেই নেই। ফলে সে সব নিয়ে আলাদা আলাদা নীতি তৈরি করতে হয় এবং সেগুলি নিয়ে আবার নির্দিষ্ট সময়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হয়। ধরা যাক ব্যাগের কথাই। পাট দিয়ে তৈরি ব্যাগ, সিন্থেটিক ব্যাগ, পাট-সিন্থেটিক-প্লাস্টিক মিশিয়ে তৈরি ব্যাগ এই প্রত্যেকটির জন্যই আলাদা আলাদা  জি এস টি নির্ধারণ করতে হয়। জি এস টি নিয়ে সমস্যার শেষ নেই।