বুধবার, নভেম্বর 25, 2020

দশের মধ্যে চার জন চিনের পণ্য বয়কটে রাজি
দশের মধ্যে চার জন চিনের পণ্য বয়কটে রাজি

দশের মধ্যে চার জন চিনের পণ্য বয়কটে রাজি

  • scoopypost.com - Jun 22, 2020
  • তখনও লাদাখে উষ্ণতা ছড়ায়নি। গালওয়ানে হয়নি ভারত-চিন সংঘর্ষ। এই সমীক্ষা তখনই করা হয়েছিল। সমীক্ষা না বলে বরং মার্কেট রিসার্চ বলাই ভাল। এই রিসার্চের জিজ্ঞাসা ছিল একটাই। চিনা পণ্য বয়কটে রাজি আছেন কিনা? মনে রাখতে হবে এই এই মার্কেট রিসার্চ করা হয়েছিল ১৫ জুন গালওয়ানে দু দেশের সংঘর্ষের প্রায় একমাস আগেই। যার রিপোর্ট প্রকাশ করা হয় ১৯ জুন। এই মার্কেট রিসার্চ করে কাউন্টার পয়েন্ট রিসার্চ নামে এক সংস্থা। সমীক্ষা চালানো হয়েছিল মে মাসের মাঝামাঝি থেকে জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে।  

    গালওয়ানের ঘটনার আগেই ‘মেড ইন চায়না’ বয়কটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। যা নিয়ে মার্কেট রিসার্চ করা হয়। তাতে দেখা যায় প্রতি দশ জনের মধ্যে চার জন চিনা স্মার্ট ফোন কিনবেন না বলে জানিয়েছেন।  রিসার্চ দলের সিনিয়র সদস্য পাভেল নাইয়া এ কথা জানিয়েছেন।

    সংস্থার পক্ষ থেকে এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, তারা মনে করে গালওয়ানের ঘটনা ক্রেতাদের পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে এক বড় ভূমিকা নেবে।

    নাইয়া বলেন, সাতটি  দেশের ২৫০০ স্মার্ট ফোন ব্যবহারকরীদের নিয়ে এই সমীক্ষা করা হয়েছিল। ভারত, ইউকে, ইউ এস, স্পেন , জার্মানি, ইতালি ও ফ্রান্সের মধ্যে এই সমীক্ষা করা হয়। ভারতের প্রায় ১০০০ জনকে এই সমীক্ষার আওতায় রাখা  হয়েছিল। বাকি দেশগুলি থেকে ২০০ বা ৩০০ জনকে নিয়ে রিসার্চ চালানো হয়।নাইয়া বলেন, যদিও এঁরা বলেছেন যে চিনা স্মার্ট ফোন তাঁরা কিনবেন না, তবুও বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা যায় কোনও পণ্য কেনার সময় আরও অনেক কিছু ক্রেতার মাথায় ঘোরে। যেমন দাম, বাজারে পণ্যটি পাওয়া যাচ্ছে কিনা, ব্যবহার করা সহজ সাধ্য কিনা-এইসব।  

    সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে সময় এই রিসার্চ করা হয় তখন গালওয়ানের ঘটনা না ঘটলেও, ইউহানের করোনা সংক্রমণের ব্যাপারটা ঘটে গেছে। যার ফলে বিশ্বজুড়েই এক চিন বিরোধী মানসিকতা তৈরি হয়।যার প্রতিফলন সোশ্যাল মিডিয়াতেও দেখা গেছে। হ্যাশট্যাগ বয়কট মেড ইন চায়নার মতো প্রচার তখন শুরু হয়ে গেছে।

    যার রেশ ধরে বহু সংস্থাই  এখন মেড ইন ইন্ডিয়া এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার শুরু করেছে। গালওয়ানের ঘটনার পর ভারতেও চিনা বিরোধী মানসিকতা বাড়ছে। দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক ভাবে বয়কট অভিযান শুরু হয়েছে।

    যদিও বাস্তব ছবিটা একেবারেই ভিন্ন। আইডিসির করা অন্য এক সমীক্ষায় তা স্পষ্ট হয়েছে। মার্চ মাসে শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকে ভারতে মোট যত স্মার্ট ফোন এসেছে তার ৭৬ শতাংশই চিনের।ওই সময়ের ভারতে ৩২.৫ মিলিয়ন স্মার্ট ফোন ভারতে এসেছে। এর পাশাপাশি চিনের স্মার্ট ফোন দু হাজার থেকে দশ হাজারের মধ্যে পাওয়া যায়। ক্রেতারা জানাচ্ছেন পণ্য কেনার সময় এই বিষয়টা অবশ্যই তাঁদের মাথায় রাখতে হয়। আইডিসির সমীক্ষাতেই উঠে এসেছে ভারতে সেরা পাঁচ স্মার্ট ফোন সংস্থার চারটিই চিনের। সেরা পাঁচের তালিকায় চিনের বাইরে একটি মাত্র সংস্থা আছে তা হল স্যামসাঙ। বাকি চারটি চিনের।  

    নতুনের পাশাপাশি পুরনো ফোনের বাজারেও চিনেরই একাধিপত্য। চিনের ইয়ান্ত্রা এরকম ৩৫ হাজার পুরনো ফোন বিক্রেতার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। ইয়ান্ত্রার কো-ফাউন্ডার ও সিইও জয়ন্ত ঝা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, জিওমি সবচেয়ে বেশি স্মার্টফোন বিক্রি করে তারপরেই রয়েছে স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস ও অ্যপল।দেশ আনলকে যাওয়ার পর ব্যবসা-বাণিজ্য ফের শুরু হওয়ার পরও এই প্রবণতায় কোনও পরিবর্তন এখনও দেখা যায়নি।

    অতিমারির আগে ইয়ান্ত্রা মাসে ৬৫ হাজার ফোন বিক্রি করত। যার ২২ থেকে ২৫ শতাংশই জিওমির।পুরনো ফোনের বাজারে দেশে মোট বিক্রির ১৫ থেকে ২০ শতাংশ হল স্যামসাং সংস্থার। জয়ন্ত ঝা জানাচ্ছেন, এই পুরনো ফোনের গড় দাম সাড়ে পাঁচ থেকে ছ হাজার টাকা। এই ফোনগুলোর বেশির ভাগই জিওমি ও স্যামসাং এর দু-এক বছরের পুরনো ফোন। এ ক্ষেত্রে আই ফোনের দাম সবচেয়ে বেশি। এমনকী চার বছরের পুরনো আই ফোনও ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।