বুধবার, অক্টোবর 21, 2020

অদম্য সংকল্পের এক নাম উইলমা রুডলফ

অদম্য সংকল্পের এক নাম উইলমা রুডলফ

  • scoopypost.com - Nov 20, 2019
  • জয়ন্ত ঘোষ

    এ জগতে তাঁরাই ইতিহাসের পাতায় স্থান পায় যাঁরা তাঁদের জীবনের সকল বাধাকে হেলায় অতিক্রম করে পার হয়ে যান। এমনই এক আশ্চর্য জীবন হল অ্যাফ্রো-আমেরিকান স্প্রিন্টার উইলমা গ্লডিয়ান রুডলফ। জন্ম ২৩শে জুন, ১৯৪০ সালে টিনেসীর সেন্ট বেথেলহেমে। জীবনের শৈশব থেকেই দারিদ্রতা আর শারিরীক প্রতিবন্ধকতার সাথে অসম লড়াই করে হতাশা ও ব্যর্থতাকে জয় করে প্রতিষ্ঠালাভ করেছিলেন। মাত্র চার বছর বয়েসে স্কারলেট ফিভার ও ডাবল নিউমোনিয়ার সাঁড়াশি আক্রমণ, সঙ্গে অ্যাকিউট পোলিওর ছোবল তাঁর পা দুটিই অকেজো করে দেয়। ডাক্তারের পরামর্শে তাঁকে মেটাল শ্যু পরে থাকতে হত। জীবনে কোনোদিন আর মাটিতে পা-ই রাখতে পারবেনা এমন নিদান ছিল ডাক্তারের! কিন্তু অদম্য উইলমা ছিলেন সেই গোত্রের যে কিনা কোনদিন হার মানতে রাজি নন। তাঁর স্বপ্ন যে দুনিয়ার দ্রুততমা দৌড়বীরাঙ্গনা হওয়া।

    ডাক্তারের পরামর্শ অগ্রাহ্য করে সে মাঠে নামল প্র্যাকটিশে। মাত্র ১৩ বছর বয়েসে সে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করল। শরীরের অবস্থা অনুযায়ী অবধারিত সে সবকটি প্রতিযোগিতায় সবশেষে দৌড় শেষ করলো। কিন্তু অদম্য জেদ আর অবিরাম অনুশীলন অবশেষে তাঁকে প্রথম হওয়ার সাফল্যের আস্বাদ এনে দিল। এবার অনেকটা ভাগ্যের সহায়তা পেতেই ১৫ বছর বয়েসে সে পেল  এড টেম্পল নামে এক অসাধারণ কোচকে। যে তাঁর ইচ্ছাশক্তিকে উস্কে দিয়ে আরো কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁকে গড়তে লাগল।

    ফলস্বরূপ ১৯৫৬ ও ১৯৬০ সালে মেলবোর্ন ও রোম অলিম্পিকে মোট একটি ব্রোঞ্জ ও তিনটি সোনা জিতে সেই সময়ের বিশ্বের দ্রুততমা স্প্রিন্ট কুইনের শিরোপা লাভ করেন। এরপর ১৯৬২তে তাঁর পারফর্মেন্সের শীর্ষ শিখরে থাকাকালীন সে অবসর নিয়ে নেয়। ১৯৬৩তে টিনেসীর স্টেট ইউনিভার্সিটির স্নাতক বাকি জীবনটা কোচিং ও অধ্যাপনা করেই কাটিয়ে দেন।

    তাঁর সম্মাননা ও পুরস্কারের ঝুলিতে রয়েছে অনেক অনেক সাফল্যের খতিয়ানের পরিচয়। ১৯৬০ সালেই পেয়েছেন ১) ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশানাল অ্যাথলিট অফ দি ইয়ার, ২) অ্যাসোসিয়েটেড উইমেন অ্যাথলিট অফ দি ইয়ার, ৩) জেমস ই সুল্লিভান অ্যাওয়ার্ড। ৪) ১৯৬২ সালে বেবে দিদ্রিকসন জঁহারিয়াস অ্যাওয়ার্ড, ৫) ১৯৭৩ সালে ব্ল্যাক স্পোর্টস্ হল অফ্ ফেম, ৬) ১৯৭৪ সালে ইউ.এস ন্যাশানাল ট্র্যাক এন্ড ফিল্ড হল অফ্ ফেম, ৭) ১৯৮৩ সালে ইউ.এস অলিম্পিক হল অফ্ ফেম, ৮) ১৯৯৩ ন্যাশানাল স্পোর্টস্ অ্যাওয়ার্ড, ৯) ১৯৯৪ সালে ন্যাশানাল উইমেন্স হল অফ্ ফেম, ১০) ২০০১ সালে ন্যাশানাল ব্ল্যাক স্পোর্টস্ এন্ড এন্টারটেইনমেন্ট হল অফ্ ফেম (মরণোত্তর)। আরো কত কি!

    ১৯৭৭ সালে তাঁর জীবনী নিয়ে ডক্যুমেন্টারী ফিল্ম তৈরী হয়। ১৯৯৪ সালে জুলাই মাসে তাঁর মস্তিষ্কে ব্রেন ক্যানসার ধরা পড়ে। ১২ নভেম্বর ১৯৯৪ সালে যে মাটির উপর সে দুরন্ত গতিতে উড়ে বেড়াতো সেই মাটিতেই সে চিরশান্তিতে ঘুমিয়ে পড়লো। উইলমা গ্লডিয়ান রুডলফের জীবন কাহিনী সেইসব মানুষের অনুপ্রেরণা যাঁরা অল্পেতে হেরে যান। একটুতেই মনোবল হারিয়ে ফেলেন তাঁদের জন্য। তাঁর জীবন আমাদের এই শিক্ষাই দেয় যে, কঠোর পরিশ্রমের কোনও বিকল্প নেই।