রবিবার, অক্টোবর 25, 2020

সকল ধর্ম, শিল্প, ভাস্কর্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনের ভাব সমন্বয়ের পীঠস্থান বেলুড় মঠ

সকল ধর্ম, শিল্প, ভাস্কর্য, সঙ্গীত, সংস্কৃতি ও সমাজ জীবনের ভাব সমন্বয়ের পীঠস্থান বেলুড় মঠ

ফটো ক্রেডিট : রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বেলুড় মঠ

  • scoopypost.com - Sep 07, 2019
  • জয়ন্ত ঘোষ

    শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁর পরম শিষ্য নরেন্দ্রনাথকে বলেছিলেন যে, “তুই আমায় মাথায় করে যেখানে নিয়ে গিয়ে রাখবি আমি সেখানেই থাকব।” পরবর্তীকালে স্বামী বিবেকানন্দ যখন বেলুড়  মঠের পরিকল্পনা করেন তখন তিনি এই ভাব সমন্বয়ের দিকটির কথা মনে রেখেছিলেন।

    ঠাকুরের কথা শিরোধার্য করেই স্বামীজি তাঁর ভাবকে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। সেই মতো স্বামী বিজ্ঞানানন্দকে তিনি রীতিমতো নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন। এর সঙ্গে আরেকটি ভাবনাও কাজ করেছিল: যখন তিনি শ্রীরামকৃষ্ণের কাছে নির্বিকল্প সমাধিতে থাকার কথা বলেছিলেন তখন শ্রীঠাকুর তাঁকে ভীষণ বকেছিলেন। বলেছিলেন, “আমি চাই তুমি একটা প্রকাণ্ড বটবৃক্ষের মতো হয়ে ওঠ। যাঁর স্নিগ্ধছায়ায় তাপিত, পীড়িত মানুষ দু’দণ্ড এসে শান্তি পায়!” ঠাকুরের এই ভাবনাকে বেদবাক্যের মতো মনের গভীরে সযত্নে রেখে দিয়েছিলেন। ঠাকুরের সর্বধর্ম সমন্বয়ের কথা মাথায় রেখেই স্বামীজি চেয়েছিলেন এমন এক ভাব সমন্বয়ের মিলন মন্দির গড়ে উঠুক যেখানে সকল ধর্ম, সকল শিল্প ও ভাস্কর্য, সকল সুর ও সঙ্গীত, সকল জাতি, বর্ণ, সম্প্রদায়ের ভাবের সমন্বয় গড়ে উঠবে। সেইমতোই তিনি স্বামী বিজ্ঞানানন্দকে সমস্ত রকমের নির্দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিব্রাজনকালে তিনিই জগতের একমাত্র বিরল সন্ন্যাসী যিনি কিনা চলার পথে সমস্ত দ্রষ্টব্যস্থানের শিল্প ও ভাস্কর্যের ভাবধারাকে সযত্নে মণিকোঠায় তুলে রেখেছিলেন।

    পরিবেশ গঠনের ব্যাপারটিতে স্বামীজি ভীষণ জোর দিতেন। এব্যাপারে লক্ষ্যনীয় যে বেলুড় মঠের সমস্ত পথ, বাগান, মাঠ, বাড়িঘর সম্মিলিত যে পরিবেশ তাতে দেখা যায় সর্বত্র একটা স্নিগ্ধতার পরশ রয়েছে। কিন্তু সেটা কী ভাবে একটু তলিয়ে ভাবলে বা দেখলেই বোঝা যাবে।

    ধরুন আপনি বেলুড় মঠে প্রবেশ করছেন। সোজা রাস্তা ধরে এগোতে এগোতে দেখবেন দুপাশে স্থূলপর্ণী বৃক্ষের সারি সারি সমাহার। স্থূলপর্ণী বলতে মোটা পাতার গাছ অর্থাৎ কাঁঠাল, রবার এই সব গাছের কাজই হল অতিরিক্ত বাষ্প মোচন করা। ফলে প্রাকৃতিক বাতানুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অসাধারণ চিন্তাধারা!

    এরপর আসবে স্থাপত্য ও ভাস্কর্যকলার বিবরণ। গোটা বেলুড় মঠটাই একটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সকল সংস্কৃতির ভাব সমন্বয়ের সম্যক চিত্র। সমস্ত দেশকাল ও ধর্মসংস্কৃতির সংমিশ্রণে এক অভূতপূর্ব মিলন মন্দির হয়ে উঠেছে। এরফলে যেটা হয়েছে সেটা হল সকল ধর্ম-মত-পথ-জাত-বর্ণ-সম্প্রদায়বিশেষে সকলেই যখন বেলুড় মঠে আসেন তখন তাঁরা মনে করেন এটা তাঁদেরই নিজেদের পবিত্র পীঠস্থান। শ্রীশ্রীঠাকুর ঠিক এটাই চেয়েছিলেন। স্বামীজী ভাব ও ভাবনার অধিচিন্তনে সেটাই প্রতিষ্ঠা করে গেলেন।