বৃহস্পতিবার, অক্টোবর 22, 2020

মার্শাল আর্টের বিগবস- Bruce Lee

মার্শাল আর্টের বিগবস- Bruce Lee

  • scoopypost.com - Nov 27, 2019
  • জয়ন্ত ঘোষ

    Bruce Yun Fang Lee। জন্ম ১৯৪০ সালের ২৭ নভেম্বর। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে জন্ম হলেও শরীরে বইছিল চিনা রক্ত। তাঁর বাবা লি হো-চুং ছিলেন ক্যান্টনিজ অপেরা ও চলচ্চিত্র তারকা এবং মা গ্রেস হো। Bruce Lee বড় হন হংকংয়ের কাউলুনে। শৈশবের বেশির ভাগ সময় কেটেছে হংকংয়ে। বাবার সুবাদেই সিনেমা ও টিভিতে শিশু শিল্পী হিসাবে কাজ করে সমাজে অল্পস্বল্প নাম কুড়িয়েছেন। তারপর কৈশোরে কিছু বদমাশ গুণ্ডাদের হাতে মার খেয়ে জীবনধারাই পাল্টে যায়। মাত্র ১৩ বছর বয়সে মাস্টার ইপম্যানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ঘটে। তিনি তাঁকে উইং চুন স্টাইলের মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষণ দেন। এরপরই তিনি মনপ্রাণ ঢেলে মার্শাল আর্টে তালিম নেন। মাত্র পাঁচ বছর তালিম নিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য মার্শাল আর্টিস্ট।

    তিনি প্রচলিত মার্শাল আর্টের সাথে নিজস্ব ঘরানার কুংফুর কৌশল ও জুড়োর দাঁও প্যাঁচ মিশিয়ে সৃষ্টি করেন নতুন শিল্প-“জিৎ-কুন-দো”! আসলে Bruce Lee-র  আরেকটা গুণ তো মার্শাল আর্টেই চাপা পড়ে গেছে সেটা হলো তাঁর সহজাত নৃত্যকলা! নাচে তাঁর এতটাই দক্ষতা ছিল যে, মাত্র ১৮ বছর বয়েসে হংকংয়ের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় প্রতিযোগিতায় চা-চা নাচের জন্য শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা অর্জন করেন। মার্শাল আর্টের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তাঁর মাথা খুব ঠাণ্ডাই থাকত কিন্তু অন্যায় দেখলে Bruce Lee-কে রোখা মুশকিল হতো। এসব কারণে বেশ কয়েকবার পুলিশি ঝামেলা হওয়ায় তাঁর মা-বাবা তাঁকে পাঠিয়ে দেন যুক্তরাষ্ট্রে।

    এখান থেকেই শুরু Bruce Lee-র জীবন সংগ্রাম। একদিকে পড়াশোনা আরেকদিকে আত্মীয়ের রেস্তোরাঁয় কাজ করা। এই দুইয়ের মাঝেই সিয়াটেলে তাঁর প্রথম মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এর ফাঁকে টুকটাক টিভিতে কাজ করা ও হলিউডে কাজ করার ঝোঁক বাড়ে। স্টান্টম্যান ও সাইড রোলে কাজ করে পয়সা কামালেও নাম তখনও হয়নি।

    তিনি এবার হংকংয়ে বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করলেন। দ্য বিগ বস (১৯৭১), ফিস্ট অফ ফিউরি (১৯৭২) ও দ্য ওয়ে অব দ্য ড্রাগন (১৯৭২) তারমধ্যে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। রাতারাতি সর্বত্র হৈচৈ পড়ে যায় তাঁকে নিয়ে। এবার হলিউডের দরজা খুলে গেল তাঁর জন্য। তাঁকে নিয়ে তৈরি হল ‘এন্টার দ্য ড্রাগন’ (১৯৭৩)। এই একটি সিনেমা করেই Bruce Lee তখন হলিউডের বিশাল তারকা। সারা বিশ্ব যখন Bruce Lee জ্বরে কাঁপছে, সামনেই এন্টার দ্য ড্রাগনের প্রিমিয়ার। তারই কিছুদিন আগে হঠাৎ করে ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই মাত্র ৩২ বছর বয়সে হংকংয়ে মারা গেলেন Bruce Lee। তাঁর মৃত্যু রহস্য আজও অজ্ঞাত রয়ে গেছে।

    ১৯৭৩ সালের মে মাসে একটি চলচ্চিত্রে ডাবিংয়ের সময় Bruce Lee-র মস্তিষ্ক হঠাৎই ফুলে উঠতে শুরু করে, সঙ্গে শুরু হয় তীব্র মাথাব্যথা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলা হয় সেরিব্রাল ইডিমা। ডাক্তারদের সার্বিক চেষ্টায় Bruce Lee মস্তিষ্কের সমস্যা থেকে মুক্তি পান। কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্তিষ্কের ফুলে ওঠা কমাতে সক্ষম হলেও ছয় সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তা আবার মারাত্মক হয়ে ফিরে আসে। ১৯৭৩ সালের ২০ জুলাই Bruce Lee গিয়েছিলেন তাঁর সহ-অভিনেত্রী বেটি টিং পেইর কাউলুন টংয়ের বাড়িতে। উদ্দেশ্য ছিল তাঁর আসন্ন একটি ছবির চরিত্র নিয়ে নায়িকার সঙ্গে আলোচনা করা। ঠিক এই সময়ই হঠাৎ তাঁর অসহ্য মাথা যন্ত্রণা শুরু হয়। বেটি Bruce Lee-কে ইকুয়াজেসিক নামে একটি পেইন কিলার খেতে দেন। Bruce Lee বেডরুমে চলে যান বিশ্রাম নিতে। সেখান থেকেই চির ঘুমের দেশে চলে গেলেন।

    ৩২টি চলচ্চিত্র এবং অনেক ডকুমেন্টারি ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে Bruce Lee-কে দেখা গেছে। তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য পাঁচটি চলচ্চিত্র হল- দ্য বিগ বস (১৯৭১), ফিস্ট অব ফিউরি (১৯৭২), ওয়ে অব ড্রাগন (১৯৭২), এন্টার দ্য ড্রাগন (১৯৭৩) এবং দ্য গেম অব ডেথ (১৯৭৩)। এসব ছবির মাধ্যমে তিনি বিশ্বজোড়া আইকনিক ফিগার হয়ে ওঠেন। চাইনিজ জাতীয়তাবাদকে ধারণ করার কারণে চীনাদের মধ্যে বিশেষ সমাদর লাভ করেন। বলা হয়, ‘ওয়ে অব দ্য ড্রাগন’ ছবির মাধ্যমে মার্শাল আর্টকে গোটা বিশ্বের দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেন।

    Bruce Lee-র মৃত্যু নিয়ে অনেক জল্পনার জন্ম গোটা বিশ্বে হয়েছে কিন্তু কোনটা সঠিক তা নিয়ে আজও কেউই সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। কয়েকটি যুক্তি-তর্কের তত্ত্ব সারা বিশ্বে মানুষের মনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে যেমনঃ-

    প্রথম তত্ত্ব

    চিনা মাফিয়া গ্যাং চাইনিজ ট্রায়াড (Chinese Triads) খুন করতে পারে Bruce Lee-কে। কারণ সে প্রোটেকশন মানি ফেরৎ দিতে চায়নি। চাইনিজ ট্রায়াড পয়সা লাগিয়েছিল হংকং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। Bruce Lee-কে তাঁদের ফিল্মে অভিনয় করাতে চেয়েছিল। কিন্তু Bruce Lee রাজি হননি। চাইনিজ ট্রায়াড হচ্ছে অসংখ্য শাখাপ্রশাখা যুক্ত চিনা মাফিয়ার দল। যাঁরা আজও চিন, হংকং, ম্যাকাও এবং তাইওয়ান ছাড়াও আমেরিকা, কানাডা, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, জাপান, সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইনস, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইংল্যান্ডে তাঁদের অপরাধের জাল বিছিয়ে রেখেছে।

    দ্বিতীয় তত্ত্ব

    তাঁকে খুন করেছে চিনা মার্শাল আর্টের এক গুপ্তঘাতক বাহিনী । Bruce Lee আমেরিকায় তাঁর ঘরানার মার্শাল আর্ট “জিৎ-কুন-দো” শেখাতে একটি স্কুল খুলেছিলেন। Bruce Lee চিনের মার্শাল আর্টের গোপন কলাকৌশল পশ্চিমী লোকেদের শিখিয়ে দিচ্ছে বলে চিনের রক্ষণশীল মার্শাল আর্ট গুরুরা একজন অসম্ভব পারদর্শী কুংফু বিশারদকে শ্যুটিং-এর স্টান্টম্যানদের ভিড়ে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন। সেই গুপ্তঘাতক Bruce Lee-র ওপর মারণ আঘাত ডিম মাক (Dim Mak) প্রয়োগ করে, কোনও একটি ফাইট সিকোয়েন্সে। অত্যন্ত ভয়ানক এই কৌশল। একটি মাত্র মৃদু আঘাত পড়বে শরীরের এক বিশেষ স্থানে। ধীরে ধীরে পরবর্তী কয়েক মাসে শরীরের শক্তি কমে যাবে। দেহের কলাকোষে পুষ্টিদ্রব্য সরবরাহ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাবে। শরীরে অক্সিজেন ঢুকবে কম। তারপর নিশ্চিত মৃত্যু। কিন্তু বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে যেন খুব স্বাভাবিক মৃত্যু।

    তৃতীয় তত্ত্ব

    জনপ্রিয় থিওরি। ইতালিয়ান মাফিয়ারা হলিউডে Bruce Leeকে নিয়ে সিনেমা করতে চাইছিল। কিন্তু Bruce Lee হংকংয়ে থেকে ইংরেজি সিনেমা করতে চাইছিলেন। Bruce Lee-র সব কটা ছবি সুপার হিট হচ্ছিল। আর হলিউডের অ্যাকশন ফিল্মগুলো তখন স্রেফ্ মাছি তাড়াচ্ছিল Bruce Lee-র জন্য। কোটি কোটি ডলারের লোকসান হচ্ছিল। তাই তাঁরা Bruce Lee-র খাবারে বিষ মেশায় Bruce Lee-রই বিশ্বস্ত লোককে দিয়ে।

    চতুর্থ তত্ত্ব

    রেমন্ড চাওয়ের সঙ্গে Bruce Lee-র সম্পর্ক ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছিল। গোল্ডেন হার্ভেস্ট স্টূডিওতে Bruce Lee ও রেমন্ড চাওয়ের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। রেমন্ড চাও একবার প্রেসের সামনে বলেই বসেন, Bruce Leeকে সামলানো আর একজন মাথা মোটা বখাটে ছেলেকে সামলানো একই কথা। এতে Bruce Lee মারাত্মক রেগে গিয়ে রেমন্ডকে আঘাত করে বসেন। এছাড়াও Bruce Lee-র সঙ্গে এন্টার দ্য ড্রাগনের কপি রাইট নিয়ে Bruce Lee-র মৃত্যুর আগের দিনই রেমন্ডের তুলকালাম ঝগড়া হয়েছিল। রেমন্ডের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছিল। Bruce Lee ক্রমশ রেমন্ডের বাজার দখল করে নিচ্ছিলেন। রেমন্ড বেটি টিং পেইকে দিয়ে Bruce Leeকে মুঠো মুঠো ইকুয়াজেসিক পিল দিতেন। রেমন্ড আগেই জানতেন এর পরিণাম কী হতে চলেছে। বেটি টিং পেই-এর কিছু করার ছিলনা কারণ তাইওয়ানের কুখ্যাত সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা তাইওয়ান গ্রোভ-এর সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক ছিলো রেমন্ডের। আর অভিনেত্রী বেটি নিজে একজন তাইওয়ানিজ। তাই রেমন্ডের কথা মতো কাজ না করলে বেটির প্রাণ সংশয় হতে পারতো। এবং সঙ্গত কারণেই সারা পৃথিবীর সন্দেহ ঘুরে ফিরে এসে পড়ছে রেমন্ড চাও এবং বেটি টিং পেইয়ের ওপরেই।

    পঞ্চম তত্ত্ব

    তাইওয়ানিজ অভিনেত্রী বেটি টিং পেই তাঁকে বিষ দেন চিনের সিক্রেট টং সোসাইটির হয়ে। Bruce Lee নিজে চাইনিজ হয়ে জাপানি মার্শাল আর্টের ভক্ত ছিলেন। Bruce Lee-র কাছের বৃত্তে অনেক জাপানি ছিলেন। Bruce Lee তাঁর মার্শাল আর্ট ঘরানায় ও ছবিতে জাপানি কুবাডো (Okinawan Kobudō) অস্ত্র নানচাকু ব্যবহার করতেন। যা চিনের গরিমায় আঘাত লাগাবার জন্য যথেষ্ট। Bruce Lee-র “জিৎ-কুন-দো”-র ছাত্র ভেন জর্জ লি জানিয়েছিলেন ১৯৭৩ সালের জুন মাসে Bruce Lee তাঁকে বলেছিলেন হংকং ক্রমশ অপরাধের স্বর্গরাজ্য হয়ে যাচ্ছে। Bruce Lee হংকং ছাড়তে চাইছিলেন। Bruce Lee-র প্রথম ছাত্র জেমস ডেমিলি বিশ্বাস করতেন Bruce Lee খুন হয়েছেন। তিনি নিজেই তদন্ত শুরু করেন এবং সিদ্ধান্তে আসেন যে, Bruce Leeকে খুনই করা হয়েছে। খুন করিয়েছে হংকং ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেইসব লোক। যাদের Bruce Lee একদম পছন্দ করতেন না।

    ষষ্ঠ তত্ত্ব

    Bruce Lee-র দাদা পিটারলির সন্দেহ ছিল এনগানের দিকে। ছোটোবেলার এক বন্ধু এবং Bruce Lee-র বিশ্বাসভাজন খানসামা। Bruce Leeকে যিনি খাবার থেকে পানীয় সব সাজিয়ে দিতেন। Bruce Lee-র বাড়িতেই থাকতেন। Bruce Lee-র সব সম্পত্তি বেনামে এই ব্যক্তির নামে ছিল। যদিও Bruce Lee-র মৃত্যুর পর এই ব্যক্তি আইনজীবী মারফত সব সম্পত্তি লিন্ডাকে হস্তান্তর করে দেন। তার পরিবর্তে অবশ্য এনগান পান বিশাল অঙ্কের টাকা। তারপর হঠাৎই তিনি হংকং থেকে গায়েব হয়ে যান।  তাঁকে আবার ১৯৭৪ সালে দেখা যায় ইংল্যান্ডে। এদিকে Bruce Lee-র শুধু ক্যালিফোর্নিয়ার সম্পত্তির মূল্যই নির্ধারিত হয় প্রায় ২৮ লক্ষ ইউএস ডলার। এর পর হংকং ও অন্যান্য দেশের সম্পত্তির কথা তো বাদই দিলাম। লিন্ডা রাতারাতি বিশাল সম্পত্তির মালকিন হয়ে যান। শেষদিকে লিন্ডার সঙ্গে Bruce Lee-র সম্পর্ক ক্রমশ শীতল হতে শুরু করেছিল। কারণ ছিল Bruce Lee-র মহিলাদের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ। মিতোসি উয়েহারা তাঁর “Bruce Lee : দ্য ইনকম্পেয়ারেবল ফাইটার” বইতে লিখেছেন Bruce Leeকে যখন মৃত ঘোষণা করা হলো লিন্ডা বেটিকে অনুরোধ করেছিলেন যে বেটি যেন বলেন Bruce Lee তাঁর নিজের বাড়িতেই মারা গেছেন। Bruce Lee-র মৃত্যুর পরের দিনই লিন্ডা Bruce Lee-র স্টান্ট ম্যানদের সঙ্গে Bruce Lee-র জীবন সেলিব্রেট করতে এক ব্যাঙ্কয়েট পার্টি দেন। সেদিন পার্টিতে উপস্থিত একজন স্টান্টম্যান বিলি চ্যাং উই এনগাই, বইটির লেখক মিতোসিকে বলেছিলেন এক অজানা ঘটনার কথা। পার্টিতে লোকেরা Bruce Lee-র মৃত্যু সম্পর্কে গসিপ করছিলেন যে কিভাবে Bruce Leeকে হত্যা করা হয়েছে। হঠাৎ লিন্ডা হিস্টিরিয়া রুগীর মতোই চেঁচিয়ে উঠে বলেছিলেন “আমি যখন জানতে চাইছি না Bruce Lee কীভাবে মারা গেছেন, তোমরা এত নাক গলাচ্ছ কেন?” এভাবেই লিন্ডা ও এনগান মানুষের সন্দেহের বৃত্তে এসে গেলেন।

    Bruce Lee  সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য
    * Bruce Lee অসাধারণ নাচতে পারতেন। ১৯৫৮ সালে তিনি একটি নাচের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হন। তখন মাত্র হাই স্কুলে পড়তেন তিনি। অভিনয়, মার্শাল আর্টের ট্রেনিংসহ দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের বাইরে নাচের অনুশীলনের জন্য আলাদা সময় বের করতেন তিনি।
    * Bruce Lee বাতাসের চেয়েও বেশি গতিতে ফাইট করতে পারতেন। এত ক্ষীপ্র গতিতে তিনি হাত চালাতেন যে প্রতিপক্ষ আঘাত প্রতিহত করারও সময় পেত না। ১৯৬২ সালে একটি ফাইটে তিনি মাত্র ১১ সেকেন্ডে তার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। এই ১১ সেকেন্ডে তিনি ১৫টি ঘুষি আর একটা কিক মেরেছিলেন তাকে।
    * Bruce Lee অবসরে তিনি ছবি আঁকতে পছন্দ করতেন। তাছাড়া কবিতাও লিখতেন তিনি। মার্শাল আর্ট আর ফাইটিংয়ের দৃশ্য বেশি আঁকতে পছন্দ করতেন। তার নিজের সংগ্রহের ২ হাজারের বেশি বই নিয়ে একটি লাইব্রেরিও আছে। নতুন কিছু পড়তে তার খুবই ভালো লাগত।
    * কিছু কাজ ছিল যা Bruce Lee একদমই করতে পারতেন না। সাঁতার জানতেন না। জল দেখলেই তাঁর ভয় করত। বাইক বা গাড়ি কোনোটাই তিনি চালাতে পারতেন না।

    Bruce Lee-র কয়েকটি উক্তি
    * যদি জীবনকে ভালোবাসো তবে সময় নষ্ট করো না। কারণ সময়ের যথাযথ ব্যবহারেই জীবন গড়ে ওঠে।
    * সবসময় তোমাকে নিয়ে তোমার মধ্যে তোমার মতো করে থাকো। সাফল্যের জন্য অন্য কোনো ব্যক্তিত্বকে অনুসরণ করতে যেও না।
    * জ্ঞান তোমাকে ক্ষমতা দেবে। কিন্তু চরিত্র দেবে শ্রদ্ধা।
    * জ্ঞানীর কাছ থেকে বোকা যা শেখে- জ্ঞানী তারচেয়ে বেশি শেখে বোকার প্রশ্ন থেকে।
    * সত্যিকারের বেঁচে থাকা মানে অন্যদের জন্য বেঁচে থাকা।
    * তুমি কেবল অপেক্ষা করো, আমি বিশ্বে সবচেয়ে বড় চাইনিজ তারকা হতে চলেছি।